দেশে গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ নেই – গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

0
4941

হ্যালো 24 নিউজ।। ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ-২০২১ : জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না। তারা ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কবর দিয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে তারা যেভাবে সংবিধান সংশোধন করেছে, তাতে দেশে গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ নেই। দেশে আইনের শাসন নেই, সুশাসন নেই। দেশের আইন শৃংখলা-পরিস্থিতি অত্যান্ত খারাপ, জননিরাপত্তার অভাব সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মূল্যায়ণ করলে এটা প্রমাণ হবে, দেশের মানুষ এখন স্বাধীনতার সুফল পাচ্ছেনা।
আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যার-এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে পার্টির নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় সদস্যদের সাংগঠনিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দলীয়করণ করেছে, যাকে স্বৈরতন্ত্র বলা যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয়করণে দেশের মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করলেই চাকরী ও ব্যবসায় সুযোগ আছে, সাধারণ মানুষের কোন অধিকার নেই। তিনি বলেন, হিসেব মত দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু যারা সরকারী দল করে তাদের আয় বেড়েছে হাজার হাজার গুন। কিন্তু দেশের মানুষ মাথাপিছু আয়ের সুফল থেকে বঞ্চিত।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো। দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সৃষ্ট বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেনা, তারা রাজনীতি করে ক্ষমতা গিয়ে লুটপাট করার লক্ষ্য নিয়ে। লুটপাট করে তারা এত টাকার মালিক হয়েছে যে, ছোট খাটো নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোটি কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নামে। যারা রিক্সা ভাড়া দিতে পারতো না, তারা এখন পাজেরো গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যারা বাসা ভাড়া দিতে পারতো না, তারা অসংখ্য বাড়ির মালিক। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা কালো টাকার সাথে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ কলুষিত করেছে।
এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ৯১ সালের পর থেকে সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যারা সরকার গঠন করে সেই দলের কোন এমপি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেনা ৭০ ধারার কারণে। এতে, প্রধানমন্ত্রী যা চান, তাই পাশ হয়। তার ইচ্ছের বাইরে কিছুই হয়না। তাই দেশের নির্বাহী বিভাগের সাথে আইন সভা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। আর বিচার বিভাগের প্রায় ৯৯ভাগই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। তাই সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দলীয়করণের কারণে একনায়কতন্ত্র এখন স্বৈরতন্ত্র পর্যায়ে।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টির ওপর হামলা ও মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। অফিস দখল করেছে, গুন্ডা ও পুলিশ পাঠিয়ে সভা সমাবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। জাতীয় পার্টির ওপর বিএনপি যে অত্যাচার করেছে, আল্লাহর বিচারে তারা এখন দশগুন বেশি ফিরে পাচ্ছে। আবার আওয়ামী ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, জাতীয় পার্টিকে ভাঙনের মুখে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউই জাতীয় পার্টির বন্ধু নয়।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কখনোই জোর করে ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। তখনকার রাষ্ট্রপতি দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষন দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। তিন জোটের রুপরেখা অনুযায়ী ৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য লেভেলপ্লেইং ফিল্ড ছিলোনা। তখনকার তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পল্লীবন্ধুকে জেলে দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তারপরও জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। পল্লীবন্ধু ৯১ ও ৯৬ সালের নির্বাচনে জেলে থেকেই ৫টি করে আসনে জয়ী হয়েছিলেন। দেশের মানুষ সব সময় পল্লীবন্ধু ও জাতীয় পার্টির সাথে ছিলো, এখনো আছে। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, দলকে আরো শক্তিশালী করুন, আগামী নির্বাচনে সব চেয়ে সম্ভাবনাময় পার্টি হচ্ছে জাতীয় পার্টি।

এসময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আওয়ামী লীগ লুটপাটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও জাতির জনককে অসম্মান করেছে। কারন, শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতার জন্য আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। দেশে এখন আর বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই। লুটপাটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাখো-কোটি টাকা পাচার করেছে। দেশে আইনের শাসন নেই, লেখক মুশতাক কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। নির্যাতনের শিকার কার্টুনিষ্ট কিশোর জেল থেকে মুক্তি পেলেও এখনো অসুস্থ্য। আওয়ামী লীগ ছাড়া সুবর্ণজয়ন্তী পালনে কোন দলের অধিকার নেই। রাজনীতি করার অধিকার যেনো শুধুই অওয়ামী লীগের। তিনি বলেন, বিএনপি ২১ আগষ্টে গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। হাওয়া ভবন তৈরী করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। পল্লীবন্ধুর উপজেলা পরিষদসহ সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থগিত করেছিলো। পল্লীবন্ধুর উন্নয়ন কর্মকান্ড বাঁধাগ্রস্থ করে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এসময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি কোন জোটে নেই। আগামী নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করবে জাতীয় পার্টি। দেশের মানুষ এখনো জাতীয় পার্টির উপরে আস্থা রাখে। তাই দলকে শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ও নির্বাহী সদস্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মফিজুর রহমান মফিজ, আবু সাঈদ স্বপন, গোলাম মোস্তফা বাবু মন্ডল, মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান চৌধুরী, মোঃ নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া, এডভোকেট মোঃ মাহবুব আলম শামীম, এডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির মোহন, মেহেদী হাসান শিপন, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ শাহজাহান আলী চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলাল হোসেন, জোছনা আক্তার, নাজমা নাজনিন তুলি, দেলোয়ার হোসেন কামাল, আলমগীর হোসেন, জোছনা আক্তার, নুরুচ্ছফা সরকার, আব্দুস সালাম চাকলাদার, শফিকুল ইসলাম দুলাল, মোঃ ফারুক শেঠ, শেখ হুমায়ুন কবির শাওন, জাহাঙ্গীর আলম, মিথিলা রোয়াজা, আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন, এডভোকেট এম.এ. সাত্তার, নাজমা নাজনিন মিতু, কাদের খান কদর, শাহজালাল খান, শহীদ আমিনী রুমি, হাসনাত মাহমুদ তালহা, নুরুজ্জামান লিটন, শাফিয়া পারভিন, রিনা আক্তার তুলি, হাবিবুর রহমান, মোমেনা বেগম, ইমদাদ বারী, নুরুন্নবী সুমন, শাহিনুর ইসলাম, সোলেমান সামি, শামচ্ছুদ্দিন রিন্টু, মিনি খান, নাসির উদ্দিন, মোঃ আলমগীর হোসেন, জাকির হোসেন, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ আলম, আবুল হোসেন, শাহীন আলিম, গোলাম কাদির, আবুল কাশেম, মোমেনা বেগম, নুরুজ্জামান লিটন, মহিবুর রহমান, এডভোকেট সুধীর চন্দ্র, সোহেল রানা মিঠু, দিল মোঃ দিলু, আনোয়ার হোসেন শান্ত, আনোয়ার হোসেন সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here